ngo_photo

বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি,কুমিল্লা সম্পর্কে দুটি কথা

 

1969 সালে কুমিল্লা শহরের কিছু চিকিৎসক, আইনজীবি ও সমাজসেবীরা মানবতার সেবার লক্ষ্যে চক্ষু রোগীদের বিভিন্ন সেবা প্রদানের জন্য সর্বপ্রথম কুমিল্লায় বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমতি প্রতিষ্ঠা করেন । এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সর্ব প্রথম ভ্রাম্যমান চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়। এই ধরনের কার্যক্রম জনসাধারনের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করে। কেন না তৎকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য চক্ষু চিকিৎসা সেবা সহজ লভ্য ছিল না। েএকমাত্র জেলা ছাড়া গ্রামাঞ্চলে সাধারণত সনাতন পদ্ধতিতে কবিরাজী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ছিল একমাত্র ভরসা। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় কাজ করা ছিল দুরূহ। ফলে উৎসাহী ব্যক্তিরা সমাজসেবায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে । তাই চক্ষু চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছুটা ভাটা পড়ে যায় । কয়েক বছর অতিক্রান্ত হবার পর চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের কাজ পুনরায় নতুন উদ্যোমে শুরু করা হয়।

বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধারন করে ভ্রাম্যমান চিকিৎসা শিবিরের কার্যক্রম গ্রহন করা হয়। শহর এবং শহরতলীতে এ কার্যক্রমকে সম্প্রসারণ করা হয়। স্থানীয়ভাবে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, সরকারী সংস্থা ও বিত্তবানদের কাছ থেকে বিভিন্ন সাহায্য সংগ্রহ করা হয়। চক্ষু চিকিৎসা চাহিদার প্রেক্ষিতে 1985 সালের দিকে ভ্রাম্যমান চক্ষু চিকিৎসা শিবির শহর থেকে উপজেলা পর্যায়ে এবং পরে সীমিত আকারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রসারণ করা হয়। এই সকল কর্মকান্ড সরকারের কোন সাহায্য সহায়তা ছাড়াই স্থানীয় উদ্যোগে জনগনের সক্রিয় অংশ গ্রহনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।

 

পরবর্তীতে 1991 সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা জেলা সমাজসেবার রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত হন (426/1991) এবং দাতা সংস্থা সাইট সেভার্স এর সহায়তায় সমন্বিত চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম গ্রহন করে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র ও হতদরিদ্রসহ সকল চক্ষু রোগীদের সেবা প্রদান, সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম গ্রহন করে । এনজিও এ্যাফেয়ার্স ব্যুরো রেজিষ্ট্রেশন নং-891, তারিখ: 24/01/1995।

 

 

বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা’র কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রত্যন্ত এলাকায় চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে বাংলাদেশ ই্নষ্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজী (বিকো ) এবং 100 শয্যা বিশিষ্ট চক্ষু হাসপাতাল ভবন নির্মান করা হয়েছে।

 

বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা প্রতিদিনি (শুক্রবার ব্যতীত) প্রত্যন্ত এলাকার চক্ষু রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য আউটরিচ প্রোগ্রাম (আই ক্যাম্প) এবং বহি:বিভাগের মাধ্যমে চক্ষু রোগীদের সেবা প্রদান করে আসছে। উক্ত হাসপাতালে প্রতিদিন  গড়ে 500-600 জন চক্ষু রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহন ছাড়াও দৈনিক 70-80 জন রোগীর ছানিসহ অন্যান্য অপারেশন সম্পন্ন করা হয়।

 

প্রতিমাসে 20%-30% দরিদ্র ও হতদরিদ্র রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও হ্রাসকৃত মূল্যে অপারেশন করা হয় এবং বিনামূল্যে অপারেশনের তথ্য নিয়মিত সমাজসেবা অধিদপ্তর, ঢাকা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়।

 

ভিশন

সমাজ হতে অন্ধত্ব দূর করা।

 

মিশন

অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং অন্ধত্ব সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করে তোলা এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা করা।

 

 

 

 

 

কাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠান কাজ করে

বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি কুমিল্লা সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য কাজ করে থাকে, বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে।